রাজ্যে গণতন্ত্র বিপদের মুখে-অডিও বার্তায় বুদ্ধদেব
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিমবঙ্গকে বিপদ থেকে রক্ষা করুন” দ্বিতীয় দফার ভোটের পূর্বে অডিও বার্তা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর। নন্দীগ্রাম- সিঙ্গুর শ্মশানে পরিণত হয়েছে বলে আক্ষেপের সুর তাঁর কন্ঠে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সেই গাম্ভীর্য না থাকলেও কণ্ঠস্বরে রয়েছে দৃঢ়তা ৷ অসুস্থতা জনিত কারণে ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে গলার স্বর ৷ নির্বাচনের পূর্বে লিখিত বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, “কমরেডরা যখন বাইরে লড়াই করছেন, তখন গৃহবন্দি হয়ে থাকাটা তাঁর কাছে মানসিক যন্ত্রণার” ৷ তাই গৃহবন্দি থেকেই নিজের দল সিপিআইএম তথা বামফ্রন্টের হয়ে আম-জনতার কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দিলেন ৷
লিখিত বার্তা ছাড়াও অডিও বার্তা দিলেন এই বাম নেতা। নন্দীগ্রাম সহ বাংলার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতিতে অভিযোগ করে জানিয়েছেন,”নন্দীগ্রাম- সিঙ্গুরে শিল্প আনতে বাধা দিয়ে যাঁরা চক্রান্ত করেছিলেন, তাঁরাই এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন “৷ পাশাপাশি অডিও বার্তাতেও রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করেছেন তিনি ৷ “নন্দীগ্রাম- সিঙ্গুরে এখন শ্মশানের নীরবতা বলে আক্ষেপও ঝরে পড়ল তাঁর গলায়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেববাবু একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, “রাজ্যে গণতন্ত্র বিপদের মুখে”৷
আবার অডিও বার্তায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “এ রাজ্যের রাজনীতিতে এ এক সন্ধিক্ষণ৷ বাম আমলে আমরা স্লোগান দিয়েছিলাম, কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ৷ এই নীতি নিয়ে আমরা এগিয়েছি ৷ কৃষিতে যেমন সাফল্য এসেছিল, তেমনই শিল্পে প্রসার ঘটতে শুরু করেছিল ৷ বামফ্রন্ট অপসারিত হওয়ার পর তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্য জুড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে ৷ সমস্ত ক্ষেত্রেই নেমে এসেছে হতাশা৷ একদিকে কৃষকের সঙ্কট, কৃষিজাত পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে ৷ অন্যদিকে এ রাজ্যে শিল্প, শিল্পায়ন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে “৷
গত দশ বছরে রাজ্যে উল্লেখযোগ্য কোনও শিল্প আসেনি বলে সরব হলেন বাম নেতা ৷ তাঁর আরও মন্তব্য, “সিঙ্গুর- নন্দীগ্রামে এখন শ্মশানের নীরবতা৷ শিক্ষায় নৈরাজ্য, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে৷ নাগরিক জীবনের চাহিদাগুলি অবহেলিত ৷ স্বৈরচারী শাসকদল এবং সমাজবিরোধীরা একজোট হয়েছে ৷ মহিলাদের নিরাপত্তা ভয়ঙ্কর ভাবে বিঘ্নিত ৷ যুব সম্প্রদায় আশাহীন ও উদ্যোগহীন ৷ চাকরির সন্ধানে অনেকে রাজ্য ছাড়ছে। এই পরিস্থিতি চলতে পারে না।
খবরটি পড়ে ভালো লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।

